Close

বিদ্যুৎ বিপ্লব টেকসই হলো?

শুধুমাত্র তাপদাহকে দোষারোপ না করে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কাঠামোগত, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত অদূরদর্শীতাগুলোকে এড্রেস করা হোক! অর্থনৈতিক সংকটের সাথে লোডশেডিং সরাসরি সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ খাতের অপচুক্তি, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি, ভুল জ্বালানি-নীতি, উতপাদন-সঞ্চালন-বিতরনের অসমন্বিত পরিকল্পনা শুধরানো না হলে, ব্যাপকভিত্তিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় না গেলে বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘমেয়াদে থেকে যেতে পারে। ২৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়গের পরেও বিদ্যুৎ খাত টেকসই হয়নি, বরং এই ফ্ল্যাগশিপ খাতই দেশকে দেউলিয়া করার আয়োজন করে রেখেছে।     

পহেলা নভেম্বর ২০২২, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংসদকে জানিয়েছিলেন, ‘২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার (২৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯৭৩ কোটি ডলার।’ প্রশ্ন হচ্ছে, ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগও কেন মানুষকে ভয়াবহ লোডশেডিং থেকে রক্ষা করতে পারলো না?

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণগুলোকে মোটামুটি পাঁচভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এক- প্রাথমিক জ্বালানি তেল গ্যাস ও কয়লা সরবারহ অনিশ্চয়তা এবং স্পট মার্কেট থেকে আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতি, দুই- ডলার সংকটে অনিষ্পন্ন এলসি এবং উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা, তিন- সবুজ বিদ্যুতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগহীনতায় তেল গ্যাস কয়লায় অতি নির্ভরতা, চার- উৎপাদন সঞ্চালন ও বিতরণে সমন্বয়হীনতা, পাঁচ- অক্ষম ও ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং নিম্নমানের যন্ত্রপাতি। একদিকে ডলার সংকটে কয়লা তেল ও গ্যাস আমদানির বিশাল বকেয়া জমেছে, অন্যদিকে মিথ্যা ঘোষণার ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে অক্ষম, পাশাপাশি বিতরণ লাইনে সক্ষমতার সংকট।

সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবারহ, স্থায়ী চুক্তিভিত্তিক আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎসের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে, কিন্তু দেখা গেছে কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনের জ্বালানির অভাবে সচল রাখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে জানানো হয়, গ্যাস/জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি মেগাওয়াটে মাসিক ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় ১০-১২ হাজার ডলার এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি মেগাওয়াটে মাসিক ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হয় ২০-২৫ হাজার ডলার। এই হিসাবে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝায় বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রে মাসে গচ্চা যাবে ৭০ মিলিয়ন ডলার! সরকারের ভর্তুকি না পাওয়ায় আটকে আছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধ; ৪৫ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধের কথা থাকলেও ১৮০ দিনেও তা করতে পারছে না পিডিবি। বিপাকে পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বকেয়া বিলের ওপর সুদ দাবি করছে সর্বমোট প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। কমিশন বান্ধব আমদানী, দরকারি ও বেদরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপচুক্তি এবং ডলার সংকট জনিত জ্বালানি সংকট এই তিনের অ-টেকসই সমন্বয়ে ধুঁকছে বিদ্যুৎ খাত।   

এদিকে দেশের স্থল ও সমুদ্র উপকূলে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান ও আবিষ্কৃত কূপে গ্যাস আহরণের চেষ্টা একেবারেই নগণ্য। ডলার সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লা, গ্যাস ও তেলের কমে আসা মূল্য অর্থাৎ ইউক্রেন যুদ্ধ পূর্ববর্তি দামের কাছাকাছি দামের সুবিধা নিতে পারছে না সরকার। দেড় বছরে পিডিবির গড় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৩,৪৯ %, রেন্টাল, আইপিপি এবং সরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল সেপ্টেম্বর’২২ থেকে জানুয়ারি’২৩ পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সাল থেকে আদানির অন্যায্য ক্যাপাসিটি চার্জ এবং রুপপুরের রাশিয়ান ঋণের কিস্তি প্রদান শুরু হলে পিডিবির দেনার দায় সীমাহীন হবে। বিশেষ গোষ্ঠীর কমিশন বাণিজ্যের লোভে দীর্ঘমেয়াদী আমদানি চুক্তির বদলে মোট তেল ও গ্যাস আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই খোলাবাজার থেকে করা হচ্ছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পরে বিশ্ববাজারে তেল গ্যাসের দাম বাড়লে সংকটে পড়ে সরকার। বর্তমানে বিশ্ববাজারের দাম কমে আসলেও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে সরকার পর্যাপ্ত জ্বালানি কিনতে পারছে না, নতুন সমস্যা আমদানি এবং উৎপাদন উভয়ের বকেয়া।

লোডশেডিং যে দ্রুতই থামছে না, তার বড় প্রমাণ তেল আমদানির বকেয়া জমেছে ৪১৫৭ কোটি টাকা, প্রায় চারশ মিলিয়ন ডলার। মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলার সংকটের কারণে এলসির বকেয়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় বিপিসিকে তেল সরবরাহ না করার কথা জানিয়েছে ৭ বিদেশি প্রতিষ্ঠান। জ্বালানি তেল সরবরাহ বাবদ বিপিসির কাছে পাওনাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক ভিটল এশিয়া, চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (ইএনওসি), ভারতীয় আইওসিএল, ভারতীয় নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল), সিঙ্গাপুরের পেট্রো চায়না ও ইন্দোনেশিয়ার বুমি সিয়াক পুসাকো (বিএসপি) উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) পাওনা আদায়ে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

নতুন লোডশেডিং এর ঝুঁকি আছে অভ্যন্তরীণ খাতেও। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৬০ শতাংশের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা শেভরনের বকেয়া প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)। ৬ মাসের বেশি বকেয়া থাকায় চুক্তি অনুসারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন।

ডলার সংকট ছাড়াও লোডশেডিং এর অন্যান্য কাঠামোগত কারণ আছে। একটি হচ্ছে চাহিদার সাথে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সক্ষমতা না থাকা। গ্রীষ্মের গরমে যখন চাহিদা বাড়ে, তখন সারাদেশে পল্লীবিদ্যুৎ সহ বিতরণ কোম্পানীগুলোর প্রায় ৫০ হাজার ট্রান্সফর্মার ঝুঁকিতে থাকে, ফলে লোডশেডিং না করা হলে পুড়ে যাবার ঝুঁকি তৈরি হয়। অর্থাৎ চাহিদার সাথে বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিনিয়োগ অসমন্বিত। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট, তথাপি গ্রীষ্মের তাপদাহে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট কম। ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরেও নিয়মিত সঞ্চালন সক্ষমতা উৎপাদনের  চেয়ে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট কম।

কয়লা সংকটে বড়পুকুরিয়ারামপাল বন্ধ থাকছে। মাত্র ছয় মাসে রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র দু’বার বন্ধ করতে হয়েছে। কয়লা সংকটে বন্ধ হয়েছে নতুন কেন্দ্র পায়রাও। পায়রায় বকেয়া জমেছে প্রায় ২৯৩ মিলিয়ন ডলার। প্রকৃতপক্ষে লোডশেডিংয়ে আসল কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির প্রাপ্যতার সংকটেও সবুজ জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুতে ব্যাপক বিনিয়োগে না যাওয়া পরিকল্পনাগত অদূরদর্শিতা। মাত্র ৪ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য সবুজ বলে বাকি ৯৬ শতাংশের জন্য দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ডলারে জীবাশ্ম জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। প্রায় সবগুলো নতুন এবং আমাদনি বিদ্যুৎকেদ্রই কয়লাভিত্তিক। ফলে আমাদের জ্বালানি ও বিদ্যুতখাত মূলত অটেকসই থেকে গেছে।      

বর্তমান লোডশেডিংয়ের প্রধানতম কারণ তাপীয় অদক্ষ, নিম্ন প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর (টানা সচল থাকার সক্ষমতা) এবং ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘনঘন রক্ষণাবেক্ষণ। ১২ এপ্রিলে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন-ক্ষমতা ২৩ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট, প্রকৃত সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াট যদিও সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সক্ষমতার তুলনায় ৮ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট কম। তথাপি সেদিন, ৭৭৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সক্ষমতার ধারে কাছেও উৎপাদন করা যাচ্ছে না কেন? ঐদিন ১৫৩টা বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্রিয় ছিলো, যারমধ্যে ৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (৩১.৪%) ইঞ্জিন যন্ত্রপাতির সমস্যা ছিল, ৩৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র (২২.২%) জ্বালানি-সংকটে ভুগেছে এবং ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র (৭.৮%) মেরামত কাজ চলছিল। অর্থাৎ, যন্ত্রপাতির সমস্যা ও জ্বালানির অভাব- এই দুটো কারণেই ৯৪টা বিদ্যুৎকেন্দ্র (৬১.৪%) ঠিকমত চলেনি। অর্থাৎ মাত্র ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠিকঠাক চলেছে। গ্যাস সংকট, সংস্কার ও মেরামতজনিত কারনে ৫ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকছে। অন্যদিকে তেল ভিত্তিক আইপিপি এবং রেন্টাল কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকছে প্রায় ৬০% সময়। এদিকে ৯মে মে লোডশেডিং আরও বেড়ে হয় ১৭২৫ মেগাওয়াট! ৯ মে ৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেল সংকটে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বন্ধ ছিল। বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত যেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ডাম্পিং কেন্দ্র হয়ে উঠেছে!

সরকারি কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার ৯৬ মেগাওয়াট, ভারতের আদানিসহ বেসরকারি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আট হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। ছোট আইপিপি (এসআইপিপি), রেন্টাল (৩/৫ বছর মেয়াদি) বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় দেড় মেগাওয়াট। ভারত থেকে আমদানি করা হয় এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৩ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। ১৯ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ওই সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল (আমদানিসহ) ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময়ও ৪২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। ফলে রেকর্ড উৎপাদনের সময়ও লোডশেডিং হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ষণাবেক্ষণের কারনে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ শতাংশ বেশি রাখলেই চলে। বাংলাদেশে চলতি মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এ হিসাবে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত। যদিও তেমনটি হয়নি, বরং বর্তমানে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা নেই। অর্থাৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ালেও প্রায় আট হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘নামমাত্র’ ঘোষণার বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকৃত উৎপাদনে অক্ষম! এসব মিথ্যা ঘোষণার বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস থেকেই ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে, কিছু কেন্দ্র ডলার ও কয়লা সংকটে থাকলেও মূল সমস্যা কথিত রক্ষণাবেক্ষণ অর্থাৎ উৎপাদনের অক্ষমতা।   

১৮ এপ্রিল লোডশেডিংয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ করে তাপদাহের কারণ দেখিয়েছেন। স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে বিদ্যুতের চাহিদার সাথে আবহাওয়া ফোরকাস্টের সংযোগ ছিল না। প্রশ্ন হচ্ছে, তীব্র গরম কিছুটা কমে সহনীয় হয়ে আসলেই কি লোডশেডিং চলে যাবে? উত্তরটা হ্যাঁ বলার অবকাশ নেই। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য লোডশেডিং কেন এবং কবে থামবে সেই ব্যাখ্যা দেয় না। শুধুমাত্র তাপদাহকে দোষারোপ না করে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কাঠামোগত, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত অদূরদর্শীতাগুলোকে এড্রেস করা হোক! অর্থনৈতিক সংকটের সাথে লোডশেডিং সরাসরি সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ খাতের অপচুক্তি, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি, ভুল জ্বালানি-নীতি, উতপাদন-সঞ্চালন-বিতরনের অসমন্বিত পরিকল্পনা শুধরানো না হলে, ব্যাপকভিত্তিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় না গেলে বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘমেয়াদে থেকে যেতে পারে। ২৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়গের পরেও বিদ্যুৎ খাত টেকসই হয়নি, বরং এই ফ্ল্যাগশিপ খাতই দেশকে দেউলিয়া করার আয়োজন করে রেখেছে।       

তড়িৎ প্রকৌশলী, বুয়েট। টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক। গ্রন্থকার: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ; বাংলাদেশ: অর্থনীতির ৫০ বছর; অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অভাবিত কথামালা; বাংলাদেশের পানি, পরিবেশ ও বর্জ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Leave a comment
scroll to top